ভূমিকম্পের সংজ্ঞাঃ ভূপৃষ্ঠের কোনও অংশ যদি কোনও
আকস্মিক কারণে অল্প সময়ের জন্য কেঁপে ওঠে বা দুলে ওঠে তাকে ভূমিকম্প বলা হয়।
ভূমিকম্প ঘটে তখনই যখন ভূত্বকে বা তারও গভীরে কোনও শিলাখন্ডের স্থানান্তরণ হয়। তখন
ভূগর্ভের ভেতরের এক বিশাল শক্তি তরঙ্গের মত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে যেখানে এই
শিলাস্তর সরে গেল বা স্থানচ্যুত হল সেখানে ও তার কাছাকাছি এলাকায় এই তরঙ্গের
প্রভাবে ভূমিতে এক ধরণের দুলুনি অনুভব করা যায়। ওই শক্তি তরঙ্গ কতদূরে ছড়িয়ে পড়বে
তা নির্ভর করবে সেই শক্তির পরিমাণ কত তীব্র তার ওপর।
ভূমিকম্প শুরু হয় প্রস্তরের স্তরে চ্যুতি বা
সরণের ফলে। যেখানে এই ঘটনা ঘটে, অর্থাৎ ভূগর্ভের ভেতরে যেখানে পাথরের স্তর
সরে যাচ্ছে সেই জায়গাটিকে বলে ভূমিকম্পের কেন্দ্র। এই কেন্দ্র থেকেই ভূমিকম্প
তরঙ্গের আকারে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই কেন্দ্রটি থাকে মাটির গভীরে। এই কেন্দ্র
বরাবর লম্ব ভাবে মাটির ওপরের স্তরে যে স্থানটি থাকে তাকে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র
বলে।
ভূমিকম্পের তরঙ্গ তিন রকমের। একটিকে বলা হয় পি
তরঙ্গ। অনেকটা শব্দ তরঙ্গের মত মাধ্যমের সংকোচন ও প্রসারণের মধ্য দিয়ে এই তরঙ্গ
এগিয়ে যেতে থাকে। সাধারণ ভূস্তরে এর গতিবেগ
সেকেন্ডে ৫ কিলোমিটার। আর একটি তরঙ্গ হল এস তরঙ্গ। এটি চলে আলোক তরঙ্গের মত ঢেউ
তুলে। জলে একটা ঢিল পড়লে যেমন তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে এই এস তরঙ্গের ধরণটাও ঠিক সেই রকম।
কিন্তু এই পি আর এস তরঙ্গ কেবল মাত্র ভূগর্ভেই চলাচল করে। মাটির ওপরে এসে এই তরঙ্গগুলির
চরিত্রের কিছু পরিবর্তন হয়। তখন একে বলে এল তরঙ্গ বা পৃষ্ঠতরঙ্গ। এই তরঙ্গের
প্রভাবেই ভূমিকম্পজনিত ক্ষয় ক্ষতি হয়ে থাকে।
সিসমোগ্রাফঃ যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্পের তরঙ্গের
রেখাচিত্র পাওয়া যায় তাকে সিসমোগ্রাফ যন্ত্র বলে আর সেই যন্ত্রে ভূমিকম্পের যে
রেখাচিত্র ধরা পড়ে তাকে সিসমোগ্রাম বলে। সব রকমের ভূমিকম্পের তীব্রতা সমান নয়।
তীব্রতা অনুসারে ভূমিকম্পকে ভাগ করা হয় যে স্কেলে তাকে রিখটার স্কেল বলে। এই
স্কেলে ১ থেকে ১০ অবধি মাত্রা ধরা আছে।
ভূমিকম্পের কারণঃ ভূমিকম্পের কারণ দু ধরণের।
একটা হল প্রাকৃতিক কারণ ও অপরটি হল মানুষের ক্রিয়াকলাপ জনিত কারণ।
প্রাকৃতিক কারণঃ
· ভূত্বকীয় পাতের সঞ্চারণঃ
আধুনিক ভূবিজ্ঞানীদের মতে ভূত্বক কতগুলি চলমান বা সঞ্চারণশীল পাত দিয়ে গঠিত। এই
পাত গুলিকে প্লেট বলে। এর মানে হল এই ভূত্বক একটা অখন্ড জিনিস নয়। এটা টুকরো টুকরো
খন্ডে বিভক্ত যাকে প্লেট বলে এবং এই প্লেট গুলো চলছে। এই চলার জন্যই একটা প্লেট হয়
আর একটা প্লেট থেকে দূরে সরে যাচ্ছে অথবা একটা আর একটার গায়ে এসে ধাক্কা দিচ্ছে বা
জুড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বা একটা অপরটার তলায় ঢুকে যাচ্ছে। এর ফলে শিলাচ্যুতি ঘটছে, চাপের তারতম্য ঘটছে ও বিপুল
পরিমাণে শক্তি নির্গত হচ্ছে। এই নির্গত শক্তিই ভূমিকম্পের চেহারা নিচ্ছে। এই যে
দুটি প্লেট সরছে তা মুখমুখি হতে পারে আবার পাশাপাশি হতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই
ভূমিকম্প ঘটে।
· আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতঃ আগ্নেয়গিরি হল সেই ধরণের
পাহাড় যার ভেতর থেকে প্রবল বেগে লাভা বা গলিত শিলা, গ্যাস ও তপ্ত তরল পদার্থ বাইরে
বেরিয়ে আসে। যখন এই লাভা বেরিয়ে আসে তাকে অগ্নুৎপাত বলে। অগ্নুৎপাতের সময়েও
ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
· ধ্বসঃ পাহাড়ি এলাকায় ভূমির ধ্বসের
ফলে ভূমিকম্প অনুভূত হতে পারে।
· উল্কাপাতঃ পৃথিবীর ওপর যদি বড় আকারের
কোনও উল্কা এসে পড়ে তবে ভূমি কম্প হতে পারে।
· ভূঅভ্যন্তরীণ বাষ্পচাপঃ পৃথিবীর ভেতরে বাষ্পচাপের
পরিবর্তন হলে ওই বাষ্প ভূত্বকে প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলেও ভূমিকম্প হতে
পারে।
· হিমানী সম্প্রপাতঃ এর অর্থ হল পাহাড়ের মাথায় বা
অন্যত্র যেখানে হিমবাহ আছে সেখানে বিশাল পরিমাণ হিমবাহ ভেঙে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে
গড়িয়ে নেমে আসতে পারে। একে হিমানী সম্প্রপাত বালে। এর ফলেও ভূমিকম্প অনুভূত হতে
পারে।
মানুষের কাজঃ
· পারমাণবিক বোমা বিষ্ফোরণঃ এর ফলে বিরাট এলাকা জুড়ে
ভূমিকম্প হতে পারে।
· নদী বাঁধ ও জলাধারে ভূমিকম্পঃ দূরবল শিলাস্তর যুক্ত স্থানে
বাঁধ বা জলাধার নির্মান করলে সেখানে শিলাস্তরে চ্যুতি ঘটতে পারে ও তার ফলে
ভূমিকম্প হতে পারে। ১৯৬৭ সালে মহারাষ্ট্রের কয়না নগরে এই রকমভাবে ভুমিকম্প
ঘটেছিলো।
ভূমিকম্প বলয়ঃ
পৃথিবীর সমস্ত ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলিকে
তিনটি বলয়ে ভাগ করা হয়। ১) প্রশান্তমহাসাগরীয় বলয়। ২) মধ্য আটলান্টিক বলয় ও ৩)
ভূমধ্যস্থ পার্বত্য ভূমিকম্প বলয়।
ভূমিকম্পের ফলাফল
ভূমিকম্পের ফলাফল নির্ভর করে এর তীব্রতার ওপর।
মৃদু ভূমিকম্প অনেক সময় বোঝাই যায়না।। কিন্তু তীব্র ভূমিকম্পের ফলে প্রচুর ক্ষয়
ক্ষতি হয়। রিখটার স্কেল অনুসারে ভূমিকম্পের যে তীব্রতা মাপা হয় তা দিয়ে ভূমিকম্পের
তীব্রতা মাপা হয়। রিখটার্স স্কেল হল লগারিদমিক স্কেল। এর মানে হল ২ তীব্রতা ১
তীব্রতার থেকে ১০ গুণ বেশী। আবার ৩ তীব্রতা ২ তীব্রতার থেকে ১০ গুণ বেশী, এই রকম। কিন্তু ভূমিকম্পের
ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ আজকাল মাপা হয় এম এম স্কেল ( মডিফায়েড মার্কলি স্কেল) অনুসারে।
সে অনুসারে ক্ষয় ক্ষতির একটা তালিকা দেওয়া হল।
|
ভূমিকপের তীব্রতা এম এম স্কেল অনুসারে
|
ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ
|
|
I, II
|
অনুভব করা যায়না।
|
|
II, IV
|
ঘরের মধ্যে অনুভব করা যায়। ঝুলন্ত
বস্তু দুলতে থাকে।
|
|
V, VI
|
বাড়ির বাইরেও বোঝা যায়। ঘুমন্ত লোকেরা
জেগে ওঠে। দরজা জানালা দুলতে থাকে।
|
|
VII
|
দাঁড়িয়ে থাকা যায়না। গাড়ির চালকদের
চোখে মাটিতে তরঙ্গ ধরা পড়ে। পুকুরে ঢেউ ওঠে। জল ঘোলা হয়ে যায়। বাঁধে ফাটল দেখা দেয়।
|
|
VIII, IX
|
ভয়াবহ, বাড়ির ভিতভেঙ্গে যায়। মাটির নীচে পাইপ
ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাটিতে ফাটল দেখা দেয়।
|
|
X
|
বড় বড় বাড়ি ভেঙ্গে পড়ে। পাহাড়ে ধ্বস
নামে।
|
|
XI, XII
|
ধ্বংস লীলা সম্পূর্ণ হয়। মাটির ওপর
প্রায় কোনও কিছুই আস্ত থাকে না।
|
ভূমিকম্পের ফলে যা ঘটে তা হলঃ
) ভূত্বকে চ্যুতি ঘটে। ফাটল হয়, গ্রস্ত উপত্যকা স্তুপ পর্বত
ইত্যাদি সৃষ্টি হয়।
) পাললিক শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে।
বলিত পর্বত সৃষ্টি হয়।
) নদীর গতিপথ বদলে যায়।
) ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটে। জমি
বসে গিয়ে জলাভূমি সৃষ্টি হতে পারে।
) পাহাড়ে ধ্বস নামে।
) ভুমিকম্পের ফলে সমুদ্রের
উপকূল উঁচুতে উঠে যায়। অনেক দ্বীপ সমুদ্রের গর্ভে চলে যায়।
) হিমানীসম্প্রপাত ঘটতে পারে।
) নদী শুকিয়ে যেতে পারে।
ভারতবর্ষের বিভিন্ন এলাকা ভূতাত্বিকভাবে বিভিন্ন। তাই বিভিন্ন অঞ্চল সমানভাবে ভূকম্পনপ্রবণ নয়। এই ভূকম্পন প্রবণতার একটা মানচিত্র নীচে
দেওয়া হল। শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা এই
মানিচিত্রটিকে তাদের পড়াশোনা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার
করতে পারবে কোনও



Casinos Near Me - Mapyro
ReplyDeleteFind Casinos Near Me in 원주 출장안마 Las Vegas, NV 군포 출장샵 from $69 to $109. 진주 출장안마 Casinos Near Me - Mapyro. Casino Property Map 사천 출장안마 & 충청남도 출장마사지 Floor Plans.